খেলাধুলা | 22.06.2008
ইউরো ২০০৮-এ আবার অঘটন, রাশিয়ার ম্যাজিক
কোয়ার্টার-ফাইনালে রাশিয়া ফেবারিট নেদারল্যান্ড্স্-কে বিদায় দিল ৩-১ গোলে৷ ওদিকে রাশিয়ার কোচ গুস হিডিংক কিন্তু ঐ নেদারল্যান্ড্স্-এরই মানুষ৷
খেলার আগে গুস হিডিংক ঠাট্টা করে বলেছিলেন, যে রাশিয়া যদি ওলন্দাজদের হারাতে পারে, তবে তাঁর স্বদেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতক হতেও আপত্তি নেই৷ সেই বিশ্বাসঘাতকই হতে হল তাঁকে৷ খেলার পরে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, যে ডি গ্রুপের শেষ খেলাতে সুইডেনকে ২-০ গোলে হারানোর পর রুশ দলের প্রস্তুতির জন্য মাত্র দুদিন সময় ছিল৷ অর্থাত্ ট্যাকটিক্স্-এর দিক থেকে কিছুই করা সম্ভব হয়নি৷ তার পরেও রুশ দলের এই জয় নাকি হিডিংকের মতো অভিজ্ঞ, দুনিয়া-চষা কোচের পক্ষেও অভূতপূর্ব৷ যে রুশ দল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন যাবত্ তাদের পঞ্চম প্রচেষ্টায় এই প্রথমবার গ্রুপ পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে, যারা ডি গ্রুপের প্রথম খেলায় স্পেনের কাছে হেরেছিল ৪-১ গোলে, সেই রাশিয়া এবার হারাল নেদারল্যান্ড্স্কে ৩-১ গোলে৷ ইতিপূর্বে ঐ ওলন্দাজরা কিন্তু ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালীকে বিদায় দিয়েছে ৩-০ গোলে, এবং ফাইনালিস্ট ফ্রান্সকে বিদায় করেছে ৪-১ গোলে৷
প্রথম থেকে শেষ
ওলন্দাজরা যেন মিটমিট করছিল এই তারুণ্য আর উদ্দীপনায় ভরা, টগবগে রাশিয়ান তরুণদের তুলনায়৷ কাঁচা বয়সে প্রাচুর্য্যের আমবাগানে ফেলে-ছড়িয়ে খাওয়ার মতো রুশীরা একের পর এক সুযোগ তৈরী করেছে এবং নষ্ট করেছে৷ ওদিকে ডাচ্রা যেন কিরকম নার্ভাস, উদ্বিগ্ন, শ্লথগতি৷ তায় আবার হিডিংকের হাতে দুটি তুরুপের তাস৷ একটি পাভলিউচেঙ্কো, অপরটি আর্শাভিন, জ়েনিটের যে তরুণ খেলোয়াড়টিকে হিডিংক দুটো ম্যাচের সাসপেনশন থাকতেও সাথে নিয়ে এসেছেন৷ যে আর্শাভিন শেষমেষ ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হল৷ ৫৬-মিনিটের মাথায় বাঁদিক থেকে সার্গেই সেমাকের সেন্টার করা বল ভলি করে নেটে ঢোকাল পাভলিউচেঙ্কো৷ অতঃপর রুশীদের ঢেউ-এর পরে ঢেউ এসে ডাচ পেনাল্টি এরিয়ায় আছড়ে পড়েছে, কিন্তু ফিনিশ করতে পারেনি, কমবয়সে যা হয়৷ ফলে ৮৬ মিনিটের মাথায় ওলন্দাজদের হয়ে ঝানু খেলোয়াড় রুড ফ্যান নিস্টেলরয় ওয়েস্লে স্নাইডারের ফ্রি-কিকে হেড করে গোল পরিশোধ করলেন৷ এবার ডাচ্দের হাড়ে বাতাস নয়, পালে বাতাস লাগার কথা৷ কিন্তু হল তার উল্টো৷ রুশীদের প্রেসিং অব্যাহত থাকল৷ অতিরিক্ত সময়ে, খেলা শেষ হবার আট মিনিট আগে আর্শাভিনের পাঠানো বল ট্যাপ করে গোলে ঢোকাল টরবিন্স্কি৷ তার ঠিক মিনিট দুয়েক পরে আর্শাভিনের নিজেরই একটা কাছের, চতুর শট ডাচ গোলকীপার ফ্যান ডেয়ার সারের পায়ের ফাঁক দিয়ে গলে নেটে লটকে গেল৷ রাশিয়া জিতল ৩-১ গোলে৷
তরুণের স্বপ্ন
কেন জিতল রাশিয়া, তার একাধিক উত্তর আছে৷ প্রথমতঃ, তারুণ্যের বলে৷ বয়সের হিসেবে তারাই এই টুর্ণামেন্টের তরুণতম দল৷ ওদিকে ডাচ্রা তাদের গ্রুপের খেলাগুলোতেই সব ভেলকি দেখিয়ে বসে আছে, যা দৃশ্যতঃ বুদ্ধিমানের কাজ নয়৷ আরো কমবুদ্ধির কাজ সম্ভবতঃ গ্রুপের শেষ খেলায় বি টিমকে নামিয়ে এ টিমকে রেস্ট দেওয়া৷ ওতেই পুরো ঝাঁঝটা মরে যায়৷ তৃতীয়তঃ, টেকনিক আর ট্যাকটিকের বিচারে ইউরোপ তথা বিশ্বের সেরা দলগুলি আজ এ্যাতোই কাছাকাছি, যে তারুণ্য, স্ট্যামিনা আর মনোবলই এই ইউরো ২০০৮-এ জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে৷





























