চলতি ঘটনা | 08.07.2008
জি এইট সম্মেলনে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
জিএইট এর সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে একটি ঘোষণা এসেছে জিএইট ভূক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে৷ এছাড়া জিম্বাবোয়ে পরিস্থিতি নিয়েও সরব ছিলেন জিএইট নেতৃবৃন্দ৷
বিশ্বের আটটি শিল্পোন্নত দেশের গোষ্ঠী জিএইট এর সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনা ছিলো মূলত আফ্রিকার ওপর৷ তবে দ্বিতীয় দিন সম্মেলনের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিলো বিশ্ব অর্থনীতি ও পরিবেশ নিয়ে৷
জিএইট এর সদস্য দেশগুলো মনে করছে তেলের উচ্চ মূল্যের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়ছে৷ এ নিয়ে আলোচনা শেষে দেশগুলোর পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়৷ এতে তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশগুলোর পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে৷
Bildunterschrift: Großansicht des Bildes mit der Bildunterschrift: পরিবেশ বাঁচাতে জিএইট নেতাদের বৃক্ষরোপন কর্মসুচীশিল্পোন্নত দেশগুলো বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অনিশ্চিত পর্যায় অতিক্রম করছে এবং অর্থনীতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি এখনও অব্যাহত রয়েছে৷ খাদ্য ও তেলের উচ্চ মূল্য গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে দিচ্ছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে৷
তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানীর জন্য পারমানবিক শক্তি ব্যবহারের বিস্তার নিয়েও আলোচনা করেছে শিল্পোন্নত দেশগুলো৷ তবে খাদ্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে যেসব দেশে উদ্বৃত্ত খাদ্য রয়েছে সেসব দেশকে তাদের উদ্বৃত্ত খাদ্যের মজুদ উন্মুক্ত করে দেয়ার আহবান জানিয়েছে জিএইট৷ একইসঙ্গে খাদ্য রপ্তানীতে কোন বাধা থাকলে তাও সরিয়ে ফেলতে দেশগুলোর প্রতি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আহবান জানানো হয়েছে৷
এদিকে অর্থনীতি বিষয়ে আলোচনার আগে পরিবেশ নিয়ে জিএইট ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়৷ আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমণ ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে শিল্পোন্নত দেশগুলো রাজী হয়েছে৷ জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা এ লক্ষ্য অর্জনে শিল্পোন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি চীন ভারত সহ উন্নয়নশীল বিশ্বের বড় দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন৷ আগামীকাল জিএইট এর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈঠকে এ বিষয়টি তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন জাপানী প্রধানমন্ত্রী৷
তবে শিল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে ২০৫০ সাল নাগাদ যে টার্গেট দেয়া হয়েছে তাকে অস্পষ্ট এবং এ টার্গেট পুরণের বিষয়টি অনেক দুরের ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধান ইওভো ডি বোয়ের৷ তাই তিনি শিল্পোন্নত দেশগুলোকে ২০২০ সাল নাগাদ একটি টার্গেট নির্ধারণের আহবান জানিয়েছেন৷ এছাড়া পরিবেশবাদী গ্রুপ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচারও গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমণ কমাতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর এ টার্গেটকে অপর্যাপ্ত বলে মূল্যায়ন করেছে৷
এদিকে প্রথমদিনের মত দ্বিতীয় দিনও জিম্বাবোয়ের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন জিএইট নেতৃবৃন্দ৷ তাতে তারা জিম্বাবোয়ের একতরফা নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ জিম্বাবোয়ের ওপর জাতিসংঘ অবরোধ আরোপ করলে তাতে সায় দেওয়ার ব্যাপারেও একমত হয়েছে তারা৷ এছাড়া দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিএইট নেতৃবৃন্দ ৷
এদিকে সম্মেলনের পুরোটা সময় অংশ নিয়ে থাকে মুলত জিএইট ভূক্ত আটটি দেশ৷ তবে আগামী বছর থেকে পাচটি উন্নয়নশীল দেশও এ সম্মেলনে পুরোপুরি অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি৷ এ দেশগুলো হলো চীন, ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা৷ এখন পর্যন্ত এসব দেশ কেবল আংশিক ভাবে জিএইট সম্মেলনে অংশ নিয়ে থাকে৷














