চলতি ঘটনা | 08.07.2008
ডি এইট সম্মেলনে খাদ্য তহবিল গঠনের প্রস্তাব
বিশ্বের উন্নয়নশীল আটটি মুসলিম দেশের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠী ডি এইট এর সম্মেলন কুয়ালালামপুরে শেষ হয়েছে৷ এতে মুসলিম দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ বিশ্ব খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন৷
খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি খাদ্য তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ৷
কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ডিএইট শীর্ষ সম্মেলনে মুসলিম দেশের নেতৃবৃন্দ খাদ্য মূল্য বেড়ে যাওয়াকে বিপর্যয়কর বলে আখ্যা দিয়েছেন৷ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ আহমেদ বাদাবী বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে বিভিন্ন দেশের সরকারকে তাদের নিজস্ব স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে৷ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির ফলে সারা বিশ্বের অর্থনীতি একটি ভয়াবহ হুমকির মুখোমুখি হয়ে পড়েছে৷
সম্মেলন শেষে ডি এইট সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে নেতৃবৃন্দ ১০ বছর মেয়াদের একটি বাণিজ্য বিষয়ক রোডম্যাপে স্বাক্ষর করেন৷ এ রোডম্যাপে ডিএইট ভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে ১৭১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশী পরিমাণ বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে৷ এছাড়া সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কৃষি, মত্স ও পশু সম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেয়া হয়৷ খাদ্য সংকট মোকাবেলায় কৃষি উত্পাদন কিভাবে বাড়ানো যায় সে নিয়েও আলোচনা করেন ডিএইট নেতৃবৃন্দ৷
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুশিলো বামবাং ইউডোয়োনো বর্তমান জ্বালানী ও খাদ্য সংকট মোকাবেলার জন্য দেশগুলোকে এখনই পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবলা করতে দেরী হলে তা বিপর্যয় নিয়ে আসবে৷
এদিকে বাংলাদেশের তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন এ সম্মেলনে৷ তিনি তার বক্তব্যে ডিএইট ভূক্ত দেশগুলোর খাদ্য সংকট মোকাবিলায় একটি খাদ্য তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন৷ এছাড়া তিনি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গঠনের ওপরও জোর দেন৷ তিনি বলেন, নিজেদের জাতীয় পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সুযোগ সুবিধার সমবন্টন নিশ্চিত করতে হবে৷ এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ৷
উল্লেখ্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ৮টি উন্নয়নশীল মুসলিম দেশ নিয়ে ডি এইট গঠিত হয়৷ এসব দেশে ৯০ কোটিরও বেশী মানুষ বসবাস করে যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ৷ এবার নিয়ে এটি ডিএইটের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন৷















