চলতি ঘটনা | 08.07.2008
ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় বার্লিন
বার্লিন মহানগরীর ছয়টি আধুনিক আবাসন প্রকল্প ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত ৷ ১৯১৩ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে তৈরি এই আবাসন এলাকাগুলোতে সামাজিক চেতনার প্রকাশ পেয়েছে৷
বার্লিনের ছয়টি আধুনিক আবাসন প্রকল্পের মত এরকম আধুনিক কোন স্থাপনার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম৷ স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য খোলামেলা বাসস্থান তৈরির ভাবনা থেকে এই আবাসনের উদ্ভব৷ এবং বার্লিন তখন প্রগতিশীল সমাজনীতি ও সংস্কৃতির এক প্রাণকেন্দ্র৷
আলো, হাওয়া আর সূর্যকিরণ - এই ছিল তখনকার সমাজমনস্ক জার্মান স্থপতিদের মটো৷ এঁদের মধ্যে ছিলেন ভাল্টার গ্রোপিউস, ব্রুনো টাউট ও মার্টিন ভাগনারের মত খ্যাতিমান স্থপতি৷ বার্লিনে এঁদের তৈরি আবাসন প্রকল্প সারা দুনিয়ায় বাসস্থান নির্মাণের ওপর ব্যাপক প্রভাব রেখেছিল, বলা হয়েছে ইউনেস্কোর এক বিবৃতিতে৷ এগুলোর মাঝে মূর্ত হয়ে উঠেছে এক বিশেষ সমাজচেতনা৷
Bildunterschrift: Großansicht des Bildes mit der Bildunterschrift: স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য খোলামেলা বাসস্থান তৈরির ভাবনা থেকে এই আবাসনের উদ্ভব
বিংশ শতকের গোড়ার দিকে বার্লিন শহরে প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার বাসগৃহের ঘাটতি ছিল৷ সেই ঘাটতি পূরণ করতে এগিয়ে আসেন প্রগতিশীল স্থপতিদের একটি গ্রুপ৷ রাজতন্ত্রের সময় সর্বসাধারণের ব্যবহৃত ঘরবাড়ি ছিল অন্ধকার, আলোবাতাসহীন৷ পরিসর ছিল সংকীর্ণ৷ অনেক বাড়িতে ছিল না পৃথক টয়লেট বা স্নানের পৃথক ব্যবস্থা৷ ঘরবাড়ির অবস্থা ছিল এমন শোচনীয় যে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ত৷
এই অবস্থা পাল্টাতে এগিয়ে এলেন ভাল্টার গ্রোপিউস-এর মত স্থপতিরা৷ তাঁরা তৈরি করলেন ছিমছাম ব্যবহার উপযোগী আবাসন প্রকল্প৷ টয়লেট, স্নানঘর, ঘর গরম রাখার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা, ব্যালকনি নিয়ে নির্মিত হয় নতুন শৈলীর আবাসন৷ এর ফলে বার্লিনে অপেক্ষাকৃত অল্প আয়ের মানুষদের জীবনধারণের মান বাড়ানোর এবং তা স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলার পথ প্রশস্ত হয়৷
জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত বার্লিনের ছয়টি আধুনিক আবাসন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ব্রিত্স্-এর আবাসিক এলাকা যা দেখতে ঘোড়ার খুরের মত৷ স্থাপত্য শৈলীর দিক থেকে সে সময় তা ছিল নান্দনিক উত্কর্ষেরই প্রতীক৷
প্রকল্পের মাঝখানে অসংখ্য গাছপালা নিয়ে এক সবুজের সমারোহ৷ এই প্রকল্পের সঙ্গে আরো যুক্ত হয়েছে ফাল্কেনবার্গ-এর উদ্যানশোভিত আবাসন কমপ্লেক্স, আবাসিক নগর এলাকা কার্ল লেগিয়েন, হোয়াইট সিটি এলাকা, শিলার পার্ক এবং বিশালায়তন জিমেন্স নগরী৷ আধুনিক স্থাপত্য কলায় সমৃদ্ধ বার্লিনের এই ছটি আবাসন প্রকল্পে এখনো প্রায় দশ হাজার মানুষ বাস করেন৷
বলা বাহুল্য, হেরিটেজ তালিকার অন্তর্ভুক্তিতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে বার্লিনের নগর রাজ্য কর্তৃপক্ষ এবং আবাসনের মালিকরা৷ এ নিয়ে জার্মানির ৩৩টি স্থাপনা এই সম্মানিত তালিকায় স্থান করে নিল৷














