চলতি ঘটনা | 10.07.2008
জার্মানিতে ফাউন্ডেশনের সংখ্যা ১৫৪৪৯ টি, বিনিয়োগ ১০০ বিলিয়ন ইউরো
জার্মানিতে ছোট বড় অসংখ্য ফাউন্ডেশন কাজ করে চলেছে৷ এই সব ফাউন্ডেশনের আওতায় শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বিদেশীদের এখানকার সমাজে একীকরণ বিষয়ক প্রকল্পে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরো অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে৷
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানিতে এখনকার মত এত বেশি ফাউন্ডেশন আর কখনও চোখে পড়ে নি৷ সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে এখন ১৫৪৪৯৷ ফাউন্ডেশনগুলো প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করছে নানা সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে৷ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কোন কোম্পানী হতে পারে - হতে পারে কোন গ্রুপ বা ব্যক্তিবিশেষ৷ আকারে ছোট ফাউন্ডেশনগুলোর সংখ্যাই অবশ্য বেশি৷ প্রশ্ন হল - কোন্ প্রণোদনা থেকে কোনো ব্যক্তি একটা ফাউন্ডেশন গঠনের উদ্যোগ নেন?
ফোক্সভাগেন, বশ বা ব্যার্টেল্সমান-এর মত বহুজাতিক জার্মান কোম্পানীর নিজস্ব ফাউন্ডেশন আছে৷ সেগুলো আয়তনে বিশাল৷ তাদের মূলধনও বিলিয়ন অংকের৷ তবে পাঁচ লাখ ইউরোর কম মূলধন নিয়ে যে-সব ছোট আকারের ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে জার্মানিতে তাদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি৷ ছোট হোক বড় হোক, ফাউন্ডেশনগুলোর লক্ষ্য কিন্তু এক৷ এবং তা হল সমাজের কল্যাণ করা৷
Bildunterschrift: Großansicht des Bildes mit der Bildunterschrift: গ্রিপ্স্ থিয়েটারে সংস্কৃতি চর্চা
২০০৭ সালে ১১৩৪ জন জার্মান গড়ে তোলেন এক একটি ফাউন্ডেশন৷ এটা একটা রেকর্ড৷ বার্লিনের আর্মিন স্টাপেল এমন একজন মানুষ যিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি ফাউন্ডেশন৷ ৫৯ বছর বয়স্ক স্টাপেল পেশায় উকিল এবং নোটারি পাবলিক৷ ২০০৫ সালে তিনি গড়ে তোলেন স্টাপেল ফাউন্ডেশন৷
এক সময় তাঁর মনে হয়েছে, বাচ্চাদের ও অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে এবং স্কুল শিক্ষার বাইরেও অনেক কিছুই যেন প্রত্যাশামত ঘটছে না৷ কীভাবে তার উন্নতি ঘটানো যায়, কীভাবে এই কাজে সাহায্য করা যায় -এই সব ভাবনা থেকেই আর্মিন স্টাপেল-এর মনে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার ইচ্ছা ঘুরতে থাকে৷ এই ইচ্ছা পূরণের সুযোগ আসে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর৷ উত্তরাধিকারী হিসেবে বেশ বড় অংকের অর্থ আসে তাঁর হাতে৷ তা দিয়ে ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক মূলধনের ভিত তৈরি হয়ে যায়৷
এবার আসল কাজ৷ কাজের ক্ষেত্রটাও ঠিক হয়ে যায়৷ বাচ্চাদের ভাষাপ্রয়োগের ক্ষমতা ভাল করে বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে আসে স্টাপেল ফাউন্ডেশন৷ ভাবো, শেখো, বুঝে নাও - এই মটো নিয়ে কাজ শুরু হয়৷ দ্রুত যোগাযোগ তৈরি হয় বার্লিনের বিখ্যাত শিশু ও যুব থিয়েটার গোষ্ঠী গ্রিপ্স্ থিয়েটারের সঙ্গে৷
তিন থেকে ছয় ক্লাসের ছেলেমেয়েদের স্কুলের নিয়মিত পড়াশোনার বাইরে থিয়েটারের ক্লাস করানো হয়৷ অভিজ্ঞ থিয়েটার কর্মীরা ক্লাসে যান৷ ছেলেমেয়েদের নিয়ে ছোট ছোট নাটকের মহড়া দেন৷ বাচ্চারা গ্রিপ্স্ থিয়েটারে তাদের বয়স উপযোগী নাটক দেখারও সুযোগ পায়৷ বছরে দুবার বাবামা-রাও তাদের সঙ্গী হয়৷ এভাবেই চলেছে গ্রিপ্স্ থিয়েটারের সঙ্গে স্টাপেল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা৷
বার্লিনের দুটি প্রাইমারি স্কুলে পাঁচটি থিয়েটার ক্লাসের ছেলেমেয়েরা এভাবে গল্প বলা, আলোচনা করা, শুদ্ধভাবে কথা বলা এবং অন্যের কথা শোনার কৌশলগুলো শিখে নিচ্ছে৷ পাশাপাশি তারা থিয়েটার করছে, থিয়েটার দেখছে৷ আর্মিন স্টাপেল মনে করেন, সরকারী স্কুলের বাঁধাধরা কর্মকান্ডের মাঝে এই ক্ষমতাগুলো প্রায়শই হারিয়ে যায়৷ থিয়েটার ক্লাসের খরচের অর্দ্ধেক দেয় স্টাপেল ফাউন্ডেশন৷ বাকি অর্দ্ধেকের দায়িত্ব নেয় স্কুলগুলো এবং বাবামা-রা৷
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি তিনজন জার্মানের মধ্যে একজন কোন না কোন ফাউন্ডেশনের কাজ সমর্থন করতে প্রস্তুত৷ চারজনের মধ্যে একজন অবশ্য এই সাহায্য দিয়ে থাকে৷ সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে জার্মানিতে ফাউন্ডেশনগুলো করছাড় পেয়ে থেকে৷ দশ লাখ ইউরো পর্যন্ত অর্থের ওপর কোন কর দিতে হয় না৷
ফাউন্ডেশনগুলোকে সাহায্য সমর্থন যুগিয়ে থাকে যারা তারাও করছাড়ের কিছু সুবিধা ভোগ করে থাকে৷ তবেই সেটাই একমাত্র বিবেচনা নয়৷ আর্মিন স্টাপেল-এর কথায়ঃ এই কাজের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগ পাওয়া যায়৷ শুধু সমুদ্রসৈকতে সূর্যের আলো উপভোগ করা নয়৷ অথবা বোট নিয়ে সমুদ্রে ঘোরা নয় - কিংবা শুধু বই পড়ে সময় কাটানো নয়৷ এ হল ইতিবাচক কিছু করা৷














