চলতি ঘটনা | 18.07.2008
নেলসন ম্যান্ডেলার ৯০তম জন্মদিন
নেলসন ম্যান্ডেলা এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত৷ দক্ষিণ আফ্রিকার …অ্যাপারথাইড– বা বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তারপর দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ইতিবাচক ভূমিকা উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত৷
…মাদিবা– বা ম্যান্ডেলার নব্বই বছরের জীবনকালের প্রায় এক তৃতীয়াংশই কেটেছে কুখ্যাত রবেন দ্বীপের কারাগারে৷ অথচ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি ক্ষমতাসীন শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠেন নি - বরঞ্চ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার কাজে তাঁর সব শক্তি, ক্ষমতা ও প্রভাব উজাড় করে দিয়েছেন৷ বিপুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে রাখেন নি, প্রথম কার্যকালের শেষেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে অবসর নিয়েছেন৷ তবে ম্যান্ডেলা ও অবসর - এই দুটি শব্দ পরস্পরবিরোধী৷ তাঁর প্রভাবও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়৷ বিশ্বের যে প্রান্তেই তিনি উপস্থিত হন না কেন, সেখানে তাঁকে ঘিরে বিস্ময় ও শ্রদ্ধার একটা বলয়ের সৃষ্টি হয়৷ কখনো তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মৃদু স্বরে কথা বলেন, কখনো তাঁকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুগম্ভীর পরিবেশে অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে দেখা যায়৷ তাঁর ব্যক্তিত্বের ছোঁয়া পেয়ে চারিদিকে শুধু মুগ্ধ দৃষ্টি দেখা যায়৷ অসাধারণ রসবোধ, বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য, চলাফেরার অনবদ্য ছন্দ - একবার যিনি ম্যান্ডেলার সান্নিধ্য পেয়েছেন, তিনি কোনোদিন তাঁকে বুলতে পারবেন না৷
এমন এক প্রবাদপ্রতিম পুরুষের জন্মদিনে গোটা বিশ্ব থেকে শুভেচ্ছাবার্তার ঢল নেমেছে৷ দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদপত্রগুলিতে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে৷ আফ্রিকান্স ভাষায় প্রকাশিত শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠীর বেল্ড সংবাদপত্র ১২ পৃষ্ঠার ক্রোড়পত্রে ম্যান্ডেলার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে৷ জোহানেসবার্গ শহরে ২০ বছর বয়স্ক ছাত্রী বারবারা পোফো রয়টার্সকে বলেন, ……তিনি আমাদের মুক্তি দিয়েছেন৷ তিনি না থাকলে আজ আমরা যেখানে আছি, সেখানে পৌঁছতে পারতাম না৷ আপনার জন্য আজ আমি মুক্তভাবে দেশের মাটিতে হেঁটে বেড়াতে পারছি৷ আমি আমার পছন্দমত যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারি, নিজেই কাজ খুঁজে নিতে পারি৷––
১৮ই জুলাই ম্যান্ডেলার জন্মদিন পালিত হলেও মূল উত্সব শুরু হয়ে গেছে প্রায় ৬ মাস আগেই৷ চলবে আরও কিছুদিন ধরে৷ তাই শুক্রবারের দিনটি ম্যান্ডেলা নিরিবিলিতেই কাটিয়েছেন ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুনু-তে নিজের বাড়িতে, যেখানে তিনি নিজের শৈশবও কাটিয়েছেন৷ ক্লিপটাউন, সোয়েটোতে তাঁর জন্মদিনের সরকারী অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে মানুষের ভিড় দেখে তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ রসবোধ দেখিয়ে বলেছিলেন, ……জলজ্যান্ত ৯০ বছরের একটা মানুষকে দেখার কৌতূহল দমিয়ে রাখা মনে হয় খুবই কঠিন৷––
…অ্যাপারথাইড–-এর অবসানের ১৪ বছর পরেও দক্ষিণ আফ্রিকার সমাজে বৈষম্য দূর হয় নি৷ এই বৈষম্য ধনী ও দরিদ্রদের বৈষম্য৷ জন্মদিনের বার্তায় ম্যান্ডেলা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সম্পদের বন্টনের আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ……দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা বেশ ধনী৷ তাঁরা তাঁদের সম্পদ বাকিদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন, ভাগ্য যাঁদের প্রতি তেমন প্রসন্ন হয় নি৷ দারিদ্র আমাদের জাতিকে গ্রাস করে ফেলছে৷ তুমি যদি দরিদ্র হও, তাহলে তোমার আয়ু বেশীদিন হওয়ার সম্ভাবনা কম৷––
দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক নোবেল পুরস্কার জয়ী ব্যক্তিত্ব বিশপ ডেসমন্ড টুটু ম্যান্ডেলা সম্পর্কে বলেন, ……আমরা সত্যি আশির্ব্বাদধন্য৷ তিনি আজ বিশ্বের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় স্টেট্সম্যান৷ তিনি আজ ক্ষমা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক প্রতীক৷ তিনি এক নৈতিক স্তম্ভ৷––














