চলতি ঘটনা | 22.07.2008
প্রথম জার্মানি সফরে ইরাকী প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি
জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বার্লিনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির সঙ্গে প্রায় এক ঘন্টার এক বৈঠকে দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় রচিত হবার সম্ভাবনার কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন৷
জার্মানিতে ইরাকী প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির এটাই প্রথম সফর৷ চ্যান্সেলর দপ্তরে মঙ্গলবার সামরিক সম্মানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরাকী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় জার্মান কোম্পানীগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ব্যাপক ও খোলামেলা প্রস্তুতি লক্ষ করা গেছে৷
Bildunterschrift: Großansicht des Bildes mit der Bildunterschrift: ইরাকী শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ডাক দিয়েছেন মালিকি (ফাইল ফটো)
নুরি আল-মালিকি বলেন, ইরাকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে ধাপে ধাপে৷ ঐ দেশে অর্থনৈতিক নির্মাণকাজ যাতে আরো এগিয়ে যেতে পারে তার জন্য নিরাপত্তার এই উন্নতি এক আবশ্যিক পূর্বশর্ত৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল ইরাকে ফেডারেল কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জার্মান সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷
একই সঙ্গে তিনি চান ইরাক তার শরণার্থীদের - তারা যে-ধর্মেরই হোক না কেন - দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে উত্সাহিত করার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করুক৷
ইরাকী প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি ম্যার্কেল-এর কথায় সায় দিয়ে ইরাকী শরণার্থীদের প্রতি স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ডাক দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, কে কোন ধর্মের সেটা বিবেচ্য নয়৷ সকল ইরাকীই দেশের জন্য গর্বের কারণ৷
দেশের পুনর্গঠনের জন্য এখন সকলকেই প্রয়োজন৷ আল-মালিকি বলেন, শরণার্থীরা মিলিশিয়া আর ক্রিমিনালদের হাতে বিতাড়িত হয়েছিল৷ এবং তা ছিল ইরাকের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা৷ এখন জনসংখ্যার সকল অংশের মাঝে সমতা অর্জনই আসল কাজ, বলেন ইরাকী প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি আরো বলেন, ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তরোত্তর ভাল হচ্ছে৷ ফলে শরণার্থীরা যাতে আবার দেশে ফিরতে পারে তার জন্য বাগদাদ সরকার সব রকম ব্যবস্থাই নেবে৷
এদিকে জার্মানিতে আরো ইরাকী শরণার্থী গ্রহণ করার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত৷ রাজনীতিকদের কেউ কেউ হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন এই বলে যে, এই সুযোগে অপরাধ জগতের মানুষ বা সন্ত্রাসী কেউ যেন ঢুকে পড়তে না পারে৷ কেউ বলছেন, ধর্মীয় ও জাতিগত দিক থেকে হয়রানির শিকার হওয়া মানুষদেরই শুধু শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করা উচিত্ হবে৷
বুধবার প্রধানমন্ত্রী আল-মালিকি জার্মান অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী মিশায়েল গ্লস-এর সঙ্গে এক জার্মান-ইরাকী অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেবেন৷ সম্প্রতি তিনি বাগদাদ ঘুরে এসেছেন৷ ইরাকী একনায়ক সাদ্দাম হুসেন-এর পতনের পর থেকে তিনিই প্রথম জার্মান মন্ত্রী যিনি বাগদাদ সফর করেছেন৷














