1. খোঁজ
  2. ৩০টি ভাষার মধ্যে বেছে নিন


 

বিজ্ঞান প্রযুক্তি | 12.08.2008

বাড়ির চাইতে বড় মোটর ইনজিন

জার্মান ইনজিনিয়ারিং কোম্পানী মান-এর ২৫০ বছর৷ মান ইউরোপের প্রাচীনতম শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতমই শুধু নয়, পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট ইনজিনিয়ারিং বিভাগে সে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয়দের তালিকাভুক্ত৷

বিশাল ট্রাক বা বাসের সামনে বড় হাতে এম এ এন অর্থাত্ মান কথাটা লেখা৷ কোম্পানীর এটাই ব্র্যান্ড নাম৷ আর এই জার্মান ব্র্যান্ড নামের গরিমা সারা বিশ্ব জুড়েই৷

মাশিনেনফাব্রিক আউগসবুর্গ-ন্যুরেনবার্গ এই তিনটি জার্মান শব্দের আদ্যাক্ষর নিয়ে মান৷ বিশালায়তন ট্রাক, বাস, ডিজেল মোটর, টার্বো মেশিন, স্টিম ইনজিন সবই তৈরি করে মান৷ বাড়ির চাইতে বড় মোটর ইনজিনBildunterschrift: Großansicht des Bildes mit der Bildunterschrift:  বাড়ির চাইতে বড় মোটর ইনজিনপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ইনজিনিয়ারিং শিল্পের এই জায়েন্ট-এর বার্ষিক আয় প্রায় ১৫.৫ বিলিয়ন ইউরো৷ শিল্প পরিসেবা ক্ষেত্রেও তার অবস্থান জোরালো৷ আজ সারা বিশ্বে তার কর্মী সংখ্যা ৫৫ হাজার৷

ফ্রাইং প্যান থেকে ট্রাক

আজকের বহুজাতিক এই কোম্পানী শুরু হয়েছিল অবশ্য জার্মানির রুর শিল্পাঞ্চলের ওবেরহাউজেন-এ ছোট্ট এক লোহার কারখানা হিসেবে৷ আদিতে তৈরি হত রান্নার পাত্র আর ফ্রাইং প্যান৷ মাত্র ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়ে কারখানা৷ বড় কোম্পানীর আদল নিতে বেশ কয়েক দশক সময় লেগেছে৷ দক্ষিণের বাভারিয়ায় তার সূচনা ১৮৪০ সালে৷ ১৮৯৮ সালে আউগসবুর্গ আর ন্যুরেনবার্গ শহরের দুটি মেশিন কোম্পানী যুক্ত হয়ে গড়ে ওঠে মান৷ ১৯৮৬ সাল থেকে কোম্পানীর সদর দপ্তর মিউনিখ শহরে৷ এই কোম্পানী গ্রুপের প্রধান শেয়ারহোল্ডার এখন বিশ্বখ্যাত জার্মান মোটর গাড়ী নির্মাতা ফোকসভাগেন৷

১৯১৮ সালের স্টিম ইনজিন

১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত হয়েছিল মান-এর একটি স্টিম ইনজিন৷ রণাঙ্গনে কামান বয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল এই স্টিম ইনজিনের৷ তৈরি যখন শেষ হল তখন যুদ্ধও প্রায় শেষ৷ কোম্পানীর ২৫০তম প্রতিষ্ঠা জয়ন্তী উপলক্ষে এটা জার্মানির পূর্বাঞ্চলের শোয়েরিন শহর থেকে মিউনিখে আনা হয়েছে৷ ষাট-এর দশক পর্যন্ত ঢালাই লোহার এই যান ব্যবহৃত হয়েছে কৃষিকাজে৷ কালো-লাল রঙ-এর এই স্টিম ইনজিন যখন মান-এর কারখানা থেকে বেরোয় তখন কোম্পানীর বয়স ১৬০ বছর৷

কোম্পানীর সফলতার শীর্ষে পাউল রয়েশ

প্রথম মান গ্রুপের প্রধান শেয়ারহোল্ডার জার্মান মোটর গাড়ী নির্মাতা ফোকসভাগেন
Bildunterschrift: Großansicht des Bildes mit der Bildunterschrift:  মান গ্রুপের প্রধান শেয়ারহোল্ডার জার্মান মোটর গাড়ী নির্মাতা ফোকসভাগেন বিশ্বযুদ্ধের পর কোম্পানীর তখনকার প্রধান পাউল রয়েশ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির কারখানায় শেয়ার কেনেন ব্যাপক হারে৷ মান-এর সিংহভাগ শেয়ারও আসে তাঁর হাতে৷ তিনি হয়ে ওঠেন বিশ দশকের সবচেয়ে প্রভাবশালী জার্মান শিল্পপতিদের একজন৷ ভাইমার প্রজাতন্ত্রের সময় পাউল রয়েশ ছিলেন সেই সব ভারী শিল্প মালিকদের মাথা, যাঁরা ছিলেন গণতন্ত্রের বিরোধী৷ যাঁরা জার্মানির নতুন করে অস্ত্রায়নের পক্ষ নেন সর্বতোভাবে৷ অস্ত্র সরবরাহের অর্ডার থেকে প্রচুর লাভবান হয় কোম্পানী৷ কিন্তু নাত্‌সীদের সঙ্গে ঠিক রফা করতে পারেন নি রয়েশ৷ হিটলারের পার্টিতেও তিনি যোগ দেন নি৷ ১৯৪২ সালে নাত্‌সীরা তাঁকে কোম্পানীর প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়৷ ৬৫ বছর বয়সে তিনি স্টুটগার্ট শহরের কাছে তাঁর গ্রামের বাড়িতে বাস করতে থাকেন৷ তিনি কোম্পানীর যে আকার দিয়েছিলেন যুদ্ধের পর তা ভেঙে দেয়া হয়৷

মান-এর মোটর কুইন এলিজাবেথ জাহাজের পেটে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ১০ বছর পর মিউনিখে মান কোম্পানী ট্রাক তৈরি করে রমরমা ব্যবসা ফেঁদে বসে৷ মান কোম্পানির তৈরি কুইন এলিজাবেথ জাহাজের ডিজেল মোটর Bildunterschrift: Großansicht des Bildes mit der Bildunterschrift:  মান কোম্পানির তৈরি কুইন এলিজাবেথ জাহাজের ডিজেল মোটর আজও তার ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান জুড়ে আছে এই ট্রাক৷ গত বছর ট্রাক জাতীয় যান থেকে তার আয় দাঁড়িয়েছিল প্রায় দশ বিলিয়ন ইউরো৷ মান অবশ্য একই সঙ্গে তৈরি করছে বিমান আর জাহাজের জন্য টার্বাইন, কম্প্রেসর এবং মোটর৷ বিশ্বের সমুদ্রে চলাচলরত প্রতি দুটি জাহাজের মধ্যে প্রায় একটি চলে মান-এর তৈরি মোটর দিয়ে৷ তার মধ্যে আছে চৌদ্দ হাজার কন্টেনারধারী বিশাল আকৃতির কন্টেনার জাহাজ থেকে শুরু করে বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ পর্যন্ত৷ লাক্সারি লাইনার রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ-এর পেটেও রয়েছে মান-এর মোটর৷ এক লক্ষ দশ হাজার পিএস শক্তিসম্পন্ন এই মোটর দৈর্ঘ্যে ৩৫ মিটার, উচ্চতায় ১৭ মিটার৷

মান শিল্পগ্রুপ আজ বিশ্বের সব কটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে উপস্থিত৷ জার্মানির অধিকাংশ কোম্পানীর গড় বয়স যেখানে ২০ বছর, সেখানে বিভিন্ন কোম্পানীর অধিগ্রহণ, সংযুক্তি এবং উত্‌পাদনের বৈচিত্র্য তাকে দিয়েছে ২৫০ বছর ধরে টিকে থাকার এক শক্ত ভিত৷

 

আব্দুল্লাহ আল-ফারুক

 
এই প্রতিবেদন অন্যদের পাঠান

আমাদের ই-মেল পাঠানঅন্যদের পাঠানপ্রিন্ট করুন

Weitere Schlagzeilen